Posts Tagged ‘ রিয়াল মাদ্রিদ ’

রাজনীতিতেও চলছে বার্সা-রিয়াল লড়াই

catalonia human chain 

‘রিয়াল মাদ্রিদ যখন বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলে তখন বিশ্ব থেমে যায়।’- এল ক্লাসিকোর জনপ্রিয়তা বর্ণনা করতে গিয়ে ঠিক এই বাক্যটিই ব্যবহার করেছিলেন রিয়ালের সাবেক কোচ হোসে মরিনহো। খুব বেশি বাড়িয়ে হয়তো বলেননি এই পর্তুগিজ কোচ। গত বছরের অক্টোবরে রিয়াল-বার্সা দ্বৈরথে অংশ নিতে স্পেনে ছুটেছিলেন ২৮টি দেশের ৬৮০জন সাংবাদিক। খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার হয়েছিল এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার ৩০টিরও বেশি দেশে। খেলাটি একযোগে দেখেছিল ৪০ কোটি মানুষ। ফুটবলপ্রেমী, অথচ এল ক্লাসিকোর নাম শোনেননি এমনটা হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। রিয়াল মাদ্রিদ আর বার্সেলোনার দ্বৈরথটা শুধু স্পেনেই না, সমগ্র ফুটবল বিশ্বেরই আকর্ষণ।

স্প্যানিশ এই দুইটি শহরের মধ্যে চলমান আরও একটি লড়াই হয়তো অচিরেই কেড়ে নিতে পারে সমগ্র বিশ্বের মনোযোগ। কারণ শুধু ফুটবলেই না, স্পেনের রাজনীতিতেও চলছে বার্সা-মাদ্রিদ লড়াই। সম্প্রতি স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা দাবি করে একটি মানববন্ধন করেছিলেন কাতালোনিয়ার বাসিন্দারা। স্বাধীনতার দাবি হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। স্প্যানিশ সরকারের প্রতি কাতালানদের দাবি, খুব তাড়াতাড়ি একটা গণভোট আয়োজন করতে হবে, যা থেকে নির্ধারিত হবে যে, তাদের একটা স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার অধিকার আছে কিনা।

catalan1

‘কাতালোনিয়া স্পেন নয়’, ‘আমরা স্বাধীন হতে চাই’ ইত্যাদি ব্যানার লিখে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই মানববন্ধনে। লাল-হলুদের এই ঢেউটা অতিক্রম করেছে বার্সেলোনার বিখ্যাত ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের ভেতর দিয়েও। কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় উপস্থিত ছিলেন সরকারি চাকুরিজীবী ইস্টার সারামোন। এখানকার অন্য অনেক বাসিন্দাদের মতো সারামোনও মনে করেন যে, কেন্দ্রিয় সরকার কাতালানদের উপর অনায্য আচরণ করছে। ট্যাক্স বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, ভাষার অধিকারসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ইস্যুর ক্ষেত্রে। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পক্ষে সংখ্যাগরীষ্ঠ মানুষ আছে কিনা, সেটা দেখার জন্য আমরা একটা গণভোট চাই। কিন্তু সমস্যা হলো স্পেন এটা শুনবে না। আমাদের একটাই আশা যে, ইউরোপ আর বাকি বিশ্ব এটার জন্য স্প্যানিশ সরকারকে চাপ প্রয়োগ করতে পারে।’

স্বাধীন কাতালোনিয়ার দাবিটা অনেকদিন ধরেই ছিল। সেটা আরও জোরদার করেছে ইউরোপের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। ইউরো অঞ্চলের আর্থিক সংকটের সর্বশেষ শিকারে পরিণত হয়েছে স্পেন। যার ফলে এখন আন্তর্জাতিক সাহায্য চাওয়ার চিন্তাভাবনাও আছে ইউরোপের অন্যতম বড় অর্থনীতির এই দেশটির। নানা ধরনের কৃচ্ছনীতি আরোপের ফলে স্পেনের কেন্দ্রিয় সরকারও হয়ে পড়েছে ব্যপকভাবে অজনপ্রিয়। ট্যাক্স বৃদ্ধি, জনসেবামূলক খাতে বরাদ্দ ঘাটতির বিষয়গুলো মেনে নিতে পারছে না কাতালানরা। সেই সঙ্গে কাতালান ভাষার উপর আধিপত্যশীল আচরণও ক্ষুব্ধ করেছে এই অঞ্চলের মানুষদের। গত বছরের শেষের দিকে স্পেনের প্রতিটা স্কুলে স্প্যানিশ ভাষায় পাঠদানের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাবও উস্কে দিয়েছে কাতালানদের স্বাধীকার আন্দোলন। সব মিলিয়ে বেশ খারাপ পরিস্থিতিতেই আছে স্পেনের কেন্দ্রিয় সরকার।

কিন্তু স্পেনের সবচেয়ে ধনী ও অন্যতম শিল্পায়িত অঞ্চলটিকে খুব সহজে স্বাধীনতাও দিতে চাইবে না মাদ্রিদের নীতিনির্ধারকরা। অর্থনৈতিক দিকগুলো বাদ দিয়ে শুধু ফুটবল দলটার দিকে তাকালেও স্পষ্ট বোঝা যায় কাতালানরা স্পেনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কাতালোনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে দিলে স্পেনকে দল গঠন করতে হবে কার্লোস পুয়োল, জরডি আলবা, সেস ফেব্রিগাস, জেরার্ড পিকে, জাভি, সার্জিও বুসকেটস, ক্রিশ্চিয়ান টেলোদের ছাড়া। তেমনটা হলে ফুটবল বিশ্বে সর্বজয়ী স্পেনের আধিপত্য কতটা বজায় থাকবে সন্দেহ আছে।

barcelona

যদিও স্বাধীন কাতালোনিয়ার দাবি দিনদিন বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে কাতালোনিয়ার ৭.৫ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে ৮১ শতাংশই চায় স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। বার্সেলোনা ফুটবল দলও গত ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছিল স্বাধীন কাতালোনিয়া ও তার ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণের দাবি, ‘আমাদের স্বাধীন দেশের পরিচয় তৈরির একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আমাদের ভাষা। ঠিক যেমনটা আমাদের ক্লাব। আমরা খুব দৃঢ়ভাবে কাতালান ভাষা চর্চা ও শিক্ষার অধিকার রক্ষা করতে চাই।’

কাতালোনিয়া আর স্পেনের এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদ। দুইটি শহরই দুই অঞ্চলের রাজধানী। তাই এখন হয়তো সমান্তরালেই চলতে পারে ফুটবলের ধ্রুপদী লড়াই আর রাজনীতির মারপ্যাঁচটা। মাঠের লড়াইয়ে আগামী মাসেই মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ¦ী এই দুই ফুটবল ক্লাব। ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হবে এবারের মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। সেদিন হয়তো ঘুঁচেও যেতে পারে খেলা আর রাজনীতির সীমানা। স্বাধীনতার দাবি সম্বলিত ব্যানার নিয়েই হয়তো হাজির হয়ে যেতে পারেন বার্সেলোনার সমর্থকেরা।

অদ্ভুতুড়ে জার্সি নম্বর!

numbers১ নম্বর জার্সিটার কথা মাথায় এলেই ভেসে ওঠে দলের গোলরক্ষকের কথা। ঠিক যেরকম ৯ নম্বর জার্সিধারীকে ভাবা হয় দলের প্রধান স্ট্রাইকার, ১০ নম্বরকে দলের প্রাণভোমরা। তবে সব সময়ই হিসাবটা এ রকম সাদাসিধে থাকে না। প্রচলিত প্রথা ভেঙে প্রায়ই ‘উল্টাপাল্টা’ জার্সি পরতে দেখা যায় ফুটবলারদের। সম্প্রতি যেমনটা করতে চলেছেন হল্যান্ডের সাবেক তারকা খেলোয়াড় এডগার ডেভিস। মিডফিল্ডার হওয়া সত্ত্বেও এবার তিনি গায়ে চড়াবেন ১ নম্বর জার্সিটা।

ইংল্যান্ডের ছোট্ট ক্লাব বারনেটে ডেভিসের ভূমিকা বহু বিচিত্র। অ্যাজাক্স, এসি মিলান, বার্সেলোনা, জুভেন্টাসের মতো শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে খেলার পর গত বছর চতুর্থ বিভাগের এ দলটিতে যোগ দিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী ডেভিস। তারপর থেকে তিনি পালন করছেন কোচের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অধিনায়কত্বের বাহুবন্ধনীও উঠেছে তাঁরই হাতে। তিনিই যে দলটির সর্বেসর্বা, সেটা স্পষ্টই বোঝা যায়। এ সুবিধাটা কাজে লাগিয়েই বোধ হয় দলে কিছুটা নতুনত্ব আনতে চাইছেন ডেভিস। নিজের অদ্ভুত এই খেয়ালটি সম্পর্কে তাঁর ভাষ্য, ‘এবারের মৌসুমে এটাই আমার নম্বর। আমি এ ধারাটাই চালু করতে চাই।’ ডেভিসের এই আবদার মেটানোর জন্য দলের নিয়মিত গোলরক্ষক গ্রাহাম স্টার্ককে পরতে হবে ২৯ নম্বর জার্সি।

ফুটবলে এই অদ্ভুতুড়ে জার্সির খেয়ালটা অবশ্য ডেভিসেরই প্রথম নয়। এর আগেও এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গ্রিক ক্লাব অলিম্পিকোসে খেলার সময় প্লেমেকার প্যান্টেলিস কাফেস পরেছেন ১ নম্বর জার্সি। কখনো হয়তো বাধ্য হয়েও এমন প্রথাবিরোধী জার্সি পরতে হয়েছে কোনো কোনো ফুটবলারকে। ২০০৮ সালে স্ট্রাইকার ডেরেক রিয়োর্ডানকে দেওয়া হয়েছিল ১ নম্বর জার্সি। কারণ ১০ বা ৯ নম্বর জার্সিটির দখল ইতিমধ্যেই অন্য কারও কাছে ছিল।

মরক্কোর স্ট্রাইকার হিশাম জেরোউলিকে ‘০’ নম্বর জার্সি পরার অনুমতি দিয়েছিল তাঁর ক্লাব আবেরডিন। কারণ জেরোউলির ডাকনাম ছিল ‘জিরো’।

পছন্দসই জার্সি নম্বর পরতে গিয়ে দর্শকদের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছিল ইতালিয়ান গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনকে। ২০০০ সালে হঠাত্ করে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ৮৮ নম্বর জার্সি। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল ইতালির ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে। কারণ তাদের কাছে ইংরেজি ৮টাকে মনে হয়েছিল ‘H’। আর দুইটা ৮ মিলে ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছিল ‘HH’; যার অর্থ দাঁড়াতে পারে নািস স্যালুট ‘হেইল হিটলার’রের মতো। বুফন অবশ্য ভিন্নরকম একটা ব্যাখ্যাই দিয়েছিলেন, ‘আমি ৮৮ নম্বরটা বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, এটা আমাকে চারটা বলের কথা মনে করিয়ে দিত। আর ইতালিতে বলের অর্থ কী, সেটা সবাই জানে—শক্তিমত্তা, দৃঢ়সংকল্প।’

শীর্ষ ইউরোপিয়ান ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯৯ নম্বর জার্সিটা পরেছিলেন পোর্তোর ভিক্টর বাইয়া। ২০০৩-০৪ মৌসুমে মোনাকোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে এই জার্সি গায়েই শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন পোর্তোর গোলরক্ষক।

তবে এই অদ্ভুতুড়ে জার্সি নম্বর পছন্দ করার ক্ষেত্রে হয়তো সবাইকে পেছনে ফেলে দেবে চিলির কিংবদন্তি স্ট্রাইকার ইভান জামরানোর কাহিনিটা। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা শিরোপা জেতার সময় জামরানো পরতেন ৯ নম্বর জার্সি। ১৯৯৬ সালে তিনি পাড়ি জমান ইন্টার মিলানে। সেখানেও পেয়ে যান ৯ নম্বর জার্সিটাই। কিন্তু গোল বাধে ১৯৯৮ সালে রবার্তো ব্যাজ্জিও ইন্টারে আসার পর। ইতালির এই তারকা মিডফিল্ডার ১০ নম্বর জার্সিটির দাবি জানান, যেটা তখন ছিল ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রোনালদোর দখলে। ব্যাজ্জিওর কথা মেনে নিয়ে ১০ নম্বর জার্সিটি ছেড়ে দেন রোনালদো। কিন্তু তাঁকে ৯ নম্বর জার্সিটি দেওয়া হয় জামরানোকে বঞ্চিত করে। ৯ নম্বর জার্সিটির ওপরে জামরানোর এতটাই আসক্তি ছিল যে কোনোভাবেই সেটা ছাড়তে রাজি ছিলেন না। কিন্তু একই নম্বরের জার্সি তো আর দুজন পরতে পারেন না। তাই নতুন এক ফন্দিই বের করেছিলেন জামরানো। জার্সির নম্বরটা ৯ রাখার জন্য তিনি পরতেন ‘১+৮’ লেখা একটি জার্সি। এভাবেই ইন্টার মিলানে বাকি দুই বছর খেলেছিলেন এই চিলিয়ান স্ট্রাইকার।

Davids_Image

স্পেন হতে চায় ‘সব পেয়েছির দেশ’

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ, অলিম্পিকের সোনা—কী নেই স্পেনের ট্রফি কেসে। ফুটবলের প্রায় সব কটি বড় শিরোপা জয়েরই স্বাদ পেয়েছে ইউরোপের ফুটবলের বর্তমান সম্রাটরা। কিন্তু তার পরও একটা আফসোস আছেই স্পেন-সমর্থকদের মনে। এখন পর্যন্ত ফিফা কনফেডারেশনস কাপের শিরোপাটা যে ঘরে তুলতে পারেনি এই সময়ের সেরা এ দলটি। ২০০৯ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও বিফল হতে হয়েছিল স্পেনকে। এবার সেই আক্ষেপটা ঘোচাতে চান ভিসেন্তে দেল বস্কের শিষ্যরা। হয়ে যেতে চান ‘সব পেয়েছির দেশ’।

MK-BE444_SP_WC1_G_20100711184931

২০০৮ সালে স্পেনের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভিসেন্তে দেল বস্ক। ওই বছর থেকে বিশ্বমঞ্চে স্পেনের জয়যাত্রারও শুরু। ২০০৮ সালে স্পেনকে ইউরো জিতিয়েই বিদায় নেন কোচ লুইস আরাগোনেস। ১৯৬৪ সালের পর প্রথম কোনো ট্রফি জেতে স্পেন। এত দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল বলেই হয়তো ফুটবল-দেবী দুই হাত উপচে দিতে শুরু করে লা ফুরিয়া রোজাদের। ২০১০ সালে আজন্ম আরাধ্যের প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফির স্বাদ পায় স্পেন। ২০১২ সালে গড়ে অনন্য ইতিহাস। ইউরোপ-সেরার মুকুট ধরে রেখে প্রথম দল হিসেবে ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো—এই শিরোপাত্রয়ী জেতে।

Euro-2012-final-Spain-v-Italy-Spain-celebrating-victory-spain-national-football-team-31321204-594-412

সবই আছে। নেই শুধু কনফেডারেশনস কাপটাই। এবারই সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এসেছে স্পেনের সামনে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের ১২ জন খেলোয়াড় নিয়েই সেই শূন্যস্থান পূরণের মিশনে নামছেন দেল বস্ক। এখন ক্রমাগত জিততে থাকা এই মেশিনটাকে ঠিকমতো সচল রাখতে পারলেই বাজিমাত করতে পারবেন। তবে কাজটা যে খুব একটা সহজ না, সেটাও বুঝতে পারছেন স্পেনের সফলতম এই কোচ। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে দেল বস্ক বলেছেন, ‘আমরা জানি যে, ফুটবলে প্রতি এক বা দুই বছর পর অনেক কিছুর বদল ঘটে। আর আমরা ২০০৮ সাল থেকে যে জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছি, সেটার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাটাও খুব কঠিন। তার পরও ক্রমাগত চেষ্টা করে যাওয়াটাই আমাদের বাধ্যবাধকতা।’

বরাবরের মতো স্পেন জাতীয় দলের মেরুদণ্ড গড়ে উঠছে বার্সেলোনা আর রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলারদের দিয়ে। মোট ১৩ জন খেলোয়াড় থাকছেন স্পেনের শীর্ষ এই দুই ক্লাব থেকে। কিন্তু এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকে এই দুই দলেরই বিদায় স্পেনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ হয়তো কিছুটা বাড়িয়ে দেবে। এর পাশাপাশি আছে সদ্যই শেষ হওয়া দীর্ঘ, স্নায়ুখরা মৌসুমের উপজাত হিসেবে পাওয়া ইনজুরির সমস্যা। কুঁচকির চোটের কারণে এরই মধ্যে ছিটকে পড়েছেন মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড় জাবি আলোনসো। সার্জিও রামোস, আলভারো আরবেলোয়া, জাভি ও সার্জিও বুসকেটসও ভুগছেন ইনজুরির সমস্যায়।

আক্রমণভাগের রণকৌশলও কিছুটা ভিন্নভাবে সাজাতে হতে পারে দেল বস্ককে। কারণ, এবারের ইউরোপিয়ান ফুটবল মৌসুমে খুব একটা ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি স্পেনের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডেভিড ভিয়া। সেস ফেব্রিগাস আর ফার্নান্দো তোরেসও ভুগেছেন ফর্মহীনতায়। তাই দেল বস্কের ভরসা হয়ে উঠতে পারেন ভ্যালেন্সিয়ার স্ট্রাইকার রবার্তো সলদাদো। লা লিগার এবারের মৌসুমে ২৪টি গোল করে কোচের নজর কেড়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। তাঁর আক্রমণাত্মক মানসিকতা, দ্রুতগতি আর হেড থেকে গোল করার দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন দেল বস্ক। তবে এক জায়গায় তাঁর আস্থার কোনো সমস্যা নেই। রিয়ালের মরিনহো-জমানায় ব্রাত্য হয়ে পড়লেও অধিনায়কের বাহুবন্ধনীটা ইকার ক্যাসিয়াসের হাতেই তুলে দেবেন বস্ক।

ফেবারিটের তকমা এঁটেই এবারের কনফেডারেশনস কাপে অংশ নিতে যাচ্ছে স্পেন। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে, নাইজেরিয়া ও নবাগত দল তাহিতি। ২০০৯ সালে সেমিফাইনাল থেকে স্পেনের বিদায়টা অঘটন হিসেবেই বিবেচিত হয় ফুটবল বিশ্বে। সেবার গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ জিতলেও শেষ চারের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২-০ গোলে হেরে গিয়েছিল তারা। এবার হয়তো তাই ‘চুনোপুঁটিদের’ নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক থাকবে স্পেন। কে জানে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আর্জেন্টিনা আর ফ্রান্সের মতো তারাও এবারই হয়ে যেতে পারে ‘সব পেয়েছির দেশ’।

পরবর্তী প্রজন্মেও চলবে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ?

ফুটবল বিশ্বে মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ খুবই আলোচিত একটা বিষয়। স্প্যানিশ লিগে তাঁরা খেলেনও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। মেসি, নাকি রোনালদো—এ সময়ের সেরা ফুটবলার কে? এই প্রশ্নে প্রায়ই ঝড় ওঠে ফুটবল অঙ্গনে। আর এবার বিস্ময়করভাবে মাঠের এই দ্বৈরথ যেন চলে এসেছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। গতকাল বার্সেলোনার একটি হাসপাতালে ভূমিষ্ঠ হয়েছে মেসির প্রথম পুত্রসন্তান। এর আগে ২০১০ সালের জুন মাসে পিতা হয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এ সময়ের সেরা দুই ফুটবলারের পুত্রদের বয়সের ব্যবধান ৮৬৯ দিন। মেসি ও রোনালদোর বয়সের ব্যবধানও ঠিক ৮৬৯ দিন। কাকতালীয় ব্যাপার হলেও, অনেকেই মনে করছেন, এটা যেন মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ আরও লম্বা সময় ধরে চলার ইঙ্গিত। তাহলে কি পরবর্তী প্রজন্মে পুত্রদের মাধ্যমেও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই জারি রাখবেন তাঁরা?

বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামের ৭০০ মিটার দূরের ডেক্সাস হাসপাতালে জন্ম নিয়েছে মেসির প্রথম সন্তান। পুত্রসন্তানের জনক হওয়ার পর ফেসবুকে মেসি লিখেছেন, ‘আজ আমি দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষ। আমার পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ চমত্কার এই উপহারের জন্য। আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আমার পরিবারকেও ধন্যবাদ। সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা।’ মেসি দম্পতি তাদের পুত্রসন্তানের নাম রেখেছেন থিয়াগো।

এর আগে, ২০১০ সালের ১৭ জুন, জন্ম নিয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পুত্রসন্তান। দুই তারকার এই দুই পুত্রের বয়সের ব্যবধান ৮৬৯ দিন। রোনালদোও মেসির ঠিক ৮৬৯ দিন আগে চোখ খুলেছিলেন পৃথিবীতে। এখন নিজ নিজ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো জুনিয়রও যদি ফুটবলের জগতে পা রাখে, তাহলে হয়তো ক্রীড়াবিশ্ব আরও একটা প্রজন্ম উপভোগ করতে পারবে মেসি-রোনালদোর এই দ্বৈরথ।

স্বদেশীদের ভালোবাসা কেন পাননা লিওনেল মেসি?

একের পর এক তাক লাগানো সব কীর্তি করে ফুটবল বিশ্বকে হতবিহ্বল করে রাখছেন লিওনেল মেসি। মাঠে তাঁর পায়ের অসাধারণ কারুকাজ দেখে তাজ্জব বনে যায় ফুটবলপ্রেমীরা। ধারাভাষ্যকারেরা মেসির গোলের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিশেষণ হারিয়ে ফেলেন! অবাক বিস্ময়ে ভাবেন, এরকম জাদুকরী ফুটবল খেলা কিভাবে সম্ভব? নিজের যোগ্যতার প্রমাণস্বরুপ মাত্র ২৪ বছর বয়সেই টানা তৃতীয়বারের মতো ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জার্সি গায়ে করে চলেছেন একের পর এক গোল, জিতে চলেছেন একের পর এক শিরোপা। মেসি যে এসময়ের সেরা ফুটবলার, তা এখন মোটামুটি সুপ্রতিষ্ঠিত। ফুটবল বিশ্বে জোর বিতর্ক চলছে, তিনি সর্বকালেরই সেরা ফুটবলার কিনা, তা নিয়ে। এই বিতর্কের রসদ জুগিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হন সর্বকালের সেরা দুই ফুটবলার হিসেবে খ্যাত পেলে-ম্যারাডোনা, সর্বকালের সেরা কোচ হিসেবে বিবেচিত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, ব্রিটিশ স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি, মেসির বার্সা সতীর্থ জাভি-পুয়োলসহ আরো অনেক অনেক ফুটবল তারকারা। পেলে ব্যাতিত অন্যান্য সবাই মেসিকে সর্বকালের সেরা বলে সরাসরি কোন রায় না দিলেও অন্তত সর্বকালের সেরার সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনয়নটা দিয়েছেন জোড়ালো কণ্ঠে। ক্যারিয়ার শেষে মেসি অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন, এমন বিশ্বাসও আছে অনেকের। তবে এত কিছুর পরেও এখনও কিন্তু একটা হতাশা কুরে কুরে খাচ্ছে লিওনেল মেসিকে। মন জয় করা তো অনেক দূরের কথা, এখনও নিজ দেশ আর্জেন্টিনার মানুষদের সমর্থনটাও ভালোমতো আদায় করতে পারেননি তিনি। তাঁর প্রতি অভিযোগ: তিনি কাতালানদের, আর্জেন্টিনার নন। দেশের প্রতি ভালোবাসার ঘাটতি আছে কিনা, এমন কটু প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছে সমগ্র ফুটবল বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই ফুটবলারকে। কেন স্বদেশীদের ভালোবাসা পাননা লিও মেসি? বিস্তারিত পড়ুন