Posts Tagged ‘ দক্ষিণ আফ্রিকার প্যারা-অলিম্পিক সাঁতারু ’

হাঙরের কামড় খেয়ে হাঙর বাঁচানোর আন্দোলন!‍

সবাই তাঁকে ডাকে ‘শার্ক বয়’ বা ‘শার্কি’ বলে। বিশ্বজুড়ে হাঙর নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ দক্ষিণ আফ্রিকার আচমাত হাশেইম। গত বছর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পেয়েছেন ‘গ্লোবাল শার্ক গার্ডিয়ান’-এর খেতাব। অথচ এটা জানলে চমকে যেতে হবে যে, বছর দশেক আগে এই হাঙরের কামড় খেয়েই প্রাণ হারাতে বসেছিলেন হাশেইম। অনেক কষ্টে জীবন বাঁচাতে পারলেও ডান পা-টা হারিয়েছেন হাঙরের কামড়ে। তবে কোনো কিছুতেই দমে যাননি দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাঁতারু। এখন তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্যারা-অলিম্পিকের সুইমিং পুল।

shark-boy

২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট ঘটেছিল হাশেইমের জীবন বদলে দেওয়া সেই ঘটনা। দক্ষিণ আফ্রিকার মুইজেনবার্গ সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই দেখতে পান কিছু একটা ধেয়ে আসছে তাঁর ভাই তারিকের দিকে। শুরুতে ভেবেছিলেন সেটা ছিল ডলফিন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারেন যে সেটা আসলে একটা হাঙর। ছোট ভাইকে বাঁচানোর জন্য পানিতে শব্দ করে হাঙরটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হাশেইম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ধেয়ে আসে তাঁর দিকে। অনেক চেষ্টা করেও হাঙরের কামড় থেকে বাঁচতে পারেননি তিনি। ডান পায়ের প্রায় পুরোটাই চলে গেছে ১৫ ফুট দীর্ঘ সেই হাঙরের পেটে।

হাশেইমের স্বপ্ন ছিল পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু ডান পা হারানোর ফলে শেষ হয়ে যায় তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার। পরবর্তী সময়ে হাশেইমকে সুইমিং পুলে নামার পরামর্শ দেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্যারা-অলিম্পিক সাঁতারু নাতালি দু টোইট। অনুপ্রেরণা দেন প্যারা-অলিম্পিকে অংশ নিতে।

টোইটের এই পরামর্শই বদলে দেয় হাশেইমের জীবন। এক পা নিয়েই শুরু করেন সাঁতার। অলিম্পিক পর্যন্ত আসতেও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি হাশেইমকে। ২০০৮ সালে বেইজিং প্যারা-অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো দেখা গিয়েছিল তাঁকে। ২০১২ সালে লন্ডন প্যারা-অলিম্পিকে জিতেছিলেন ব্রোঞ্জপদক। এখনো প্রতিবার সুইমিং পুলে নামার সময় সেই হাঙরের কথাই স্মরণ করেন হাশেইম, ‘সাঁতারের সময় আমি সেই ভয়টাকেই কাজে লাগাই। কল্পনা করি যে ১৫ ফুট লম্বা হাঙরটি আমার দিকে ধেয়ে আসছে। আমার ওপরে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

এবারের রিও প্যারা-অলিম্পিক শেষেই সুইমিং পুলকে বিদায় বলবেন হাশেইম। এর পর নেমে পড়বেন হাঙর রক্ষা আন্দোলনে। যে হাঙরের কামড় খেয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলেন, তার প্রতি বিন্দুমাত্র ঘৃণা বা রাগ নেই হাশেইমের। বরং বিশ্বজুড়ে যেভাবে হাঙর নিধন করা হচ্ছে তাতে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন তিনি, ‘পরিসংখ্যান খুবই ভয়াবহ। প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি হাঙর মারা হচ্ছে।’ এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রের খাদ্য শৃঙ্খলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন হাশেইম।