Posts Tagged ‘ তিন লক্ষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ’

একটি ভোটের মূল্য ২০ ডলার

আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমেরিকার ৫৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকার ইতিহাসে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন। প্রতিবারই একটু করে বাড়তে বাড়তে এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২.৫ বিলিয়ন ডলার। হিসেব করে দেখা গেছে এতে ভোট প্রতি খরচ দাঁড়ায় ২০ ডলার। কোথায় থেকে আসছে এত টাকা? খরচটাই বা হচ্ছে কোথায়?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এই ২.৫ বিলিয়ন ডলার আসছে মূলত চারটি উত্স থেকে। নির্বাচনী প্রচারণা চলার সময়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির কমিটি তহবিল সংগ্রহ করে। এখান থেকে এসেছে ৬৬১ মিলিয়ন ডলার। রিপাবলিকান কমিটি থেকে ৩৬৯ ও ডেমেক্রেটিক কমিটি থেকে ২৯২ মিলিয়ন ডলার। ৭০০ মিলিয়নেরও বেশি ডলার আসে আমেরিকান নাগরিকদের ছোট ছোট অর্থসাহায্য থেকে। বেশিরভাগ সাহায্যই থাকে ২৫০০ ডলারের কম। নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবে না এমন গ্রুপগুলোও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার জন্য অর্থসংগ্রহ করে থাকে। এইসব গ্রুপকে ডাকা হয় ‘সুপার প্যাকস’ নামে। নিজ পছন্দের প্রার্থীকে সহযোগিতা করার জন্য বা প্রতিপক্ষকে সমালোচনার মাধ্যমে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তারা এই অর্থ ব্যয় করে থাকে। এবারের নির্বাচনে এই ‘সুপার প্যাকস’ খাত থেকে এসেছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেকেরও বেশি অর্থ এসেছে মাত্র এক শতাংশ সাহায্যকারীর কাছ থেকে। আমেরিকার ক্যাসিনো ডেভেলপার শেলডন অ্যাডেলসন ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি অর্থ। তাঁর কাছ থেকে এসেছে ৫৪ মিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থের উত্স এখন পর্যন্ত থেকে গেছে পুরোটাই অজানা। তথাকথিত ‘সামাজিক উন্নয়ন গ্রুপ’গুলো তাদের অর্থদাতাদের পরিচয় উন্মোচন করতে চায়না। আর তারা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে খরচ করেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় যায়?

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য সংগ্রহীকৃত এই অর্থের সিংহভাগ খরচ হয় বিজ্ঞাপন নির্মান করতে। উত্তেজনাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে গত এক মাসে নির্মিত হয়েছে প্রায় তিন লক্ষ টেলিভিশন বিজ্ঞাপন। এগুলোর মধ্যে বারাক ওবামার সমর্থনে ছিল এক লক্ষ ৬০ হাজার ও মিট রমনির সমর্থনে ছিল এক লক্ষ ৪০ হাজার বিজ্ঞাপন।— বিবিসি অনলাইন
A $2.5bn election: Where the money comes from