Posts Tagged ‘ আসিরা আস-শামালিয়া ’

অলিম্পিকে অলৌকিকের প্রত্যাশায় ফিলিস্তিনি নারী

ওরোউদ সাওয়ালহা হয়তো জানেন যে অলিম্পিকে পদক জেতাটা কত কঠিন। আসন্ন লন্ডন অলিম্পিকে তাঁর পদক জেতার সম্ভাবনা যে কতটা ক্ষীণ-সেটাও খুব ভালো করেই জানেন তিনি। তার পরও অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়াই তাঁর আত্মবিশ্বাসকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনের এই নারী অ্যাথলেট এখন স্বপ্ন জাল বুনছেন, কিছু একটা করার। তবে আপাতত লন্ডন অলিম্পিকে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে পারাটাই একটা বিরাট সম্মানের বিষয়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার মুখে এখনো একটা স্বাধীন দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়নি ফিলিস্তিন। তার পরও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার বিশেষ অনুমতিক্রমে অলিম্পিকে ফিলিস্তিনের পতাকা বহনের অনুমতি পেয়েছে এই ভূখণ্ডের ক্রীড়াবিদেরা। ৮০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া ওরোউদ সাওয়ালহা বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা অনেককিছু। আমি একটা মেয়ে আর আমি ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি।’

সাওয়ালহা এসেছেন ফিলিস্তিনের ছোট্ট গ্রাম, আসিরা আস-শামালিয়া থেকে। পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের এই গ্রামে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলি-বোমার ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সেখানকার মানুষ ইসরায়েলি শাসকদের বিরুদ্ধে লড়ছে নিজেদের স্বাধীনতা আদায়ের দাবিতে। অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন এটা তিনি জানতেন না ছয় মাস আগেও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুযোগটা পাওয়ার পর সেটাকে ভালোভাবেই কাজে লাগাতে চান এই ফিলিস্তিনি অ্যাথলেট। আর সেই লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করে তুলছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো পদক জিততে হলে যে অলৌকিক কিছুই ঘটতে হবে, সেটাও স্বীকার করেছেন সাওয়ালহা। বলেছেন, ‘অলৌকিক কত কিছুই তো ঘটে। আশা করছি, সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় আমি ভালো একটা ফলাফলই পাব। অলিম্পিকের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর আমার টাইমিংয়ে এক মিনিটের মতো উন্নতি হয়েছে। এটাকে আমি একটা বড় অগ্রগতি হিসেবেই বিবেচনা করছি।’ সিএনএন