Archive for মার্চ 6th, 2015

‘আলো হাতে আঁধারের যাত্রী’

Avijit Roy Murder Protest

মুক্তবুদ্ধি রুদ্ধ

একদিকে ৫৭ ধারা-রাষ্ট্র অন্যদিকে মৌলবাদ
নিষেধাজ্ঞা আর নিশ্চুপিকরণ
আমরা কোথায়?

এমন প্রশ্ন সামনে রেখে অভিজিৎ রায় হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে মোমবাতি প্রজ্জলন করেছেন দমবন্ধকর ঢাকা শহরের কিছু নাগরিক। এখানে না ছিল কোনো মাইক, না কোনো ব্যানার। মুখপাত্রের ভূমিকাতেও দেখা যায়নি কাউকে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা-বিধিনিষেধ আর মৌলবাদের নিশ্চুপ করিয়ে দেওয়ার ভয়াল-সংস্কৃতি থেকে মুক্তি পেতে গেলে যে সাধারণ মানুষকে কোনো না কোনো উপায়ে সংগঠিত হতে হবে, সেই আর্জি স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে হাজারো মোমবাতির আলোয়।

দুর্বত্তদের নারকীয় হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হওয়া অভিজিৎ রায়ের একটি বইয়ের নাম ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’। যেখানে তিনি বিজ্ঞানীদের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ধারা বর্ণনা করেছেন। যাদের হাত ধরে মানুষ আজকের এই ‘আধুনিক বিজ্ঞানে’র যুগে পৌঁছেছে, তাদের ক্রমবিবর্তন বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজু ভাস্কর্যের সামনে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির নামটিও দেওয়া হয়েছিল ‘আলো হাতে আঁধারের যাত্রী’।

অনেক অনেক মানুষের মৃত্যুর মিছিলে আরেকটি নাম হিসেবে যুক্ত হয়েছেন মুক্তচিন্তক অভিজিৎ রায়। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? বিচার কি হবে আদৌ? বিচার হলেও কী সমস্যার সমাধান হবে? উত্তর সহজে মিলবে না। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট যে সাধারণ মানুষ যতদিন বিচ্ছিন্ন থাকবে, রাষ্ট্রের শাসকতার হাতে নিজের নিরাপত্তার ভার দিয়ে বসে থাকবে ততদিন পর্যন্ত কেউই নিরাপদ থাকবে না। পেট্রোল বোমা, হাত বোমা বা চাপাতির কোপ; যে কোনোটাই ছুটে আসতে পারে ঘাড়-মাথা লক্ষ্য করে। সমাধান একটাই: জনসক্রিয়তা। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে, বেঁচে থাকার স্বার্থে সমাজের প্রতিরোধ-শক্তি বাড়ানো। যেটা ক্রমশই প্রায় শূণ্যের কোটায় নিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র।

অশুভ শক্তি দমনের নাম করে রাষ্ট্র যত বেশি শুভ-স্বৈরতন্ত্র গড়ে তুলবে সাধারণ মানুষের সংকট ততই ঘনিভূত হবে। মানুষের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারে সব অশুভ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। রাষ্ট্র শুধু নিজের ক্ষমতার দেয়ালটাই আরও মজবুত করতে চায়। জনগণের নিরাপত্তা বিধানের কোনো তাগিদ রাষ্ট্রের নেই।

খুবই ছোট পরিসরে, ছোট কলেবড়ে হলেও সংগঠিত কিভাবে হওয়া যায়, জনসক্রিয়তা কিভাবে বাড়ানো যায়; সেই ভাবনার খোরাক হতে পারে ‘আলো হাতে আঁধারের যাত্রী’ শীর্ষক এই মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি।