Archive for ডিসেম্বর, 2013

যে মানুষটা টাকা ছাড়া বাঁচে

Money-Trap (1)টাকায় ঘুরছে দুনিয়ার চাকা। আক্ষরিক অর্থেই। টাকাপয়সা ছাড়া জীবনের একটা মুহূর্তও কল্পনা করা কঠিনই বটে। আমাদের ভালো মন্দ, আশা-ভরসা, দুঃখ-দুর্দশা, বাঁচা-মরাই যেন বন্দী আছে হাতে হাতে ঘোরা ছাপানো কাগজগুলোর ভেতরে। এই টাকাই যেন আমাদের প্রাণভোমড়া। কাছে থাকলে সুখ-সাচ্ছন্দ্য-ঐশ্বর্য্য আর না থাকলে কষ্ট-ভয়-অসহায়ত্ব। কিন্তু এই যুগেও কিছু মানুষ একা একাই চেষ্টা করছেন টাকাবিহীন জীবন যাপন করার।

আয়ারল্যান্ডের মার্ক বয়েল টাকাপয়সার ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন ২০০৯ সালের নভেম্বরে। ব্রিস্টলে একটা অর্গানিক ফুড ফার্মের কাছে থাকেন একটা ক্যারাভানে। সেটা তিনি পেয়েছিলেন ফ্রিসাইকেলের কাছ থেকে, টাকাপয়সার লেনদেন ছাড়াই। বাজার থেকে না কিনে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করার জন্য এই ফার্মে সপ্তাহে তিনদিন কাজ করেন বয়েল। রান্না-বান্নার জন্য ব্যবহার করেন একটা কাঠ জ্বালানোর চুলা। বিদ্যুত সরবরাহের জন্য ক্যারাভ্যানের সাথেই লাগানো আছে একটা সোলার প্যানেল। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মধ্যে আছে ল্যাপটপ আর মোবাইল। তবে মোবাইলটা চালু থাকে শুধুই ইনকামিং কলের জন্য। বয়েল নিজের এই চিন্তাভাবনার নাম দিয়েছেন ‘ফ্রিকোনোমি’। ২০০৭ সালে এটার প্রচার শুরুর পর এখন তাঁর এই অনলাইন নেটওয়ার্কে যোগ দিয়েছে ১৭ হাজার মানুষ। ২০১০ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার বই; টাকা ছাড়া মানুষটা: ফ্রিকোনোমি জীবনধারার এক বছর

টাকাবিহীন জীবনযাপনের গল্পটা শুনুন বয়েলের মুখেই:

সবকিছুর শুরুটা হয়েছিল একটা পাবে বসে। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে কথা বলছিলাম দুনিয়ার সমস্যাগুলো- সস্তা শ্রমের কারখানা, পরিবেশ বিপর্যয়, তেল-খনিজের জন্য যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে। আর আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে, সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে টাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

Moneyless man1

এরপরই আমি টাকাবিহীন জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নিলাম। বেচে দিলাম আমার ব্রিস্টলের হাউজবোটটা। অরগ্যানিক ফুড কোম্পানির চাকরিটাও ছেড়ে দিলাম। এরপর যেসব জিনিস আমি এতদিন ধরে কিনতাম সেগুলোর একটা তালিকা বানালাম। আর চেষ্টা করলাম সেগুলো অন্য কোনো উপায়ে জোগাড় করার। টুথপেস্টের জন্য এখন আমি ব্যবহার করি কাটলফিশের হাড় ও একধরনের বুনো বীজের মিশ্রন। এইরকম জীবনযাপন করতে গেলে আইপডের মতো জিনিসগুলো আপনাকে অবশ্যই বাতিলের খাতায় রাখতে হবে। এখন অবশ্য রান্নাঘরের পাশের পাখিগুলোই হয়ে গেছে আমার নতুন আইপড।

টাকাবিহীন দুনিয়ায় সবকিছুতেই একটু বেশি সময় আর শ্রম দিতে হয়। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোওয়ার কাজটা আমি মুহূর্তেই করতে পারতাম। কিন্তু এখন সেই কাজটা করতে আমার ঘন্টাদুয়েক সময় লেগে যায়।

আমি শুরুটা করেছিলাম এক বছরের কথা চিন্তা করে। কিন্তু এই জীবনধারাটা আমার এতই ভালো লেগেছে যে, আমি এভাবেই বাকি জীবনটা কাটাতে চাই। আমি জীবনে কখনোই এত খুশি আর সুস্থ ছিলাম না।

আমার শৈশবটা কেটেছে খুবই স্বাভাবিকভাবে। মনে হয়, প্রথমে আমার কাজকর্ম দেখে বাবা-মা খুব অবাকই হয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা আমাকে পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছেন। এমনকি তারা নিজেও এই রকম জীবনযাপনের চেষ্টা করবেন বলে ভাবছেন।

টাকাপয়সা ছাড়া সমাজের সবার সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টাটা অবশ্য মাঝেমধ্যে হতাশার জন্ম দেয়। আমি বড় হয়েছি উত্তর আয়ারল্যান্ডে, যেখানে বন্ধুবান্ধবকে কিছু কিনে দেওয়াটা পৌরুষত্বের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এখন আমি তাদেরকে আমার ক্যারাভ্যানে আসার আমন্ত্রণ জানাই, আগুনের পাশে বসে হাতে বানানো আপেলের রস খাওয়ার জন্য।

মার্ক বয়েলের মতো টাকাবিহীন জীবন যাপন করছেন জার্মানির Heidemarie Schwermer, আমেরিকার ড্যানিয়েল সুয়েলোরা। আর সবাই বলে আসছেন একই কথা। টাকাবিহীন জীবনটা নতুন কোনো ধারণা নয়। বস্তুত টাকার বন্দোবস্তটাই খুবই সাম্প্রতিক সময়ের উদ্ভাবন। মনুষ্য ইতিহাসের খুবই ক্ষুদ্র একটা সময় ধরেই এটা চলছে। ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়ই মানুষ কাটিয়েছে এমন সমাজে যেখানে এখনকার মতো টাকা-পয়সার হিসেবে জীবন নির্ধারণ হতো না।

ধ্বংসের ধ্বংসাবশেষ: হুমকির মুখে মালয়েশিয়ার অতীত ঐতিহ্য

Ancient grandeur

বুজাং উপত্যকা (Lembah Bujang) মালয়েশিয়ার একটি অন্যতম প্রধান প্রত্নতাত্তিক স্থান। বর্তমান কেদাহ রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত এই ঐতিহাসিক জায়গাটির প্রায় একশ বর্গমাইল জুড়ে আছে প্রাচীন বসতি ও মন্দিরের নিদর্শন, যেগুলোর কিছু কিছু নির্মান করা হয়েছিল ২০০০ বছরেরও আগে। এই ধরনের প্রাচীন প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনগুলো রক্ষা করার জন্য যেখানে বিশ্বের অনেক জায়গাতেই প্রচুর শ্রম, সময়, অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে সেখানে ধ্বংস করা হচ্ছে মালয়েশিয়ার আদি ধ্বংসাবশেষগুলো। বিলীন হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে আছে মালয়েশিয়ার অতীত ঐতিহ্য। সেখানকার ডেভেলপাররা ইতিমধ্যেই একটি প্রাচীন মন্দির ভেঙ্গেও ফেলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

Bujang Valley ruins_Image1পার্শ্ববর্তী পেনাং রাজ্যের সহকারী মুখ্যমন্ত্রী পালিনাসামি রামাস্বামী সম্প্রতি বুজাং উপত্যকা ঘুরে এসে এমন দুঃসংবাদই শুনিয়েছিলেন সবাইকে। ‘১১ নম্বর মন্দির’ নামে পরিচিত স্থাপত্যটি এক মাস আগেই গুঁড়িয়ে দিয়েছে ডেভেলপাররা। খবরটি শুরুতে অনেকে বিশ্বাসও করতে পারেননি। কিন্তু পরে এর সত্যতা উপলব্ধি করার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মালয়েশিয়ার অনেক নাগরিক। এরকমই একজন নিজের টুইটারে লিখেছেন, ‘কোনো সম্মান দেখানো হয়নি। ইসলামের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নয়- এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব না থাকলে তাদের কিছু যায় আসে না।’ একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে প্রায় সাত হাজার মানুষ এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নাগরিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে মালয়েশিয়ান সরকার ও ডেভেলপাররা। কেদাহ রাজ্যের কর্তৃপক্ষের দিক থেকে বলা হয়েছে যে, স্থাপত্যগুলো নাকি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি। আর এখন সেগুলো আছে ব্যক্তি মালিকানার অধীনে। এই ধরণের অজ্ঞ স্বীকারোক্তি মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রিয় সরকার। বুজাং উপত্যকার অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষগুলো বিস্তারিতভাবে সনাক্ত ও লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রত্নতাত্তিকদের সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।