কারাগার থেকে প্যারা-অলিম্পিকে!

প্যারা-অলিম্পিক অনেক মানুষের জন্যই অনুপ্রেরণাদায়ক। শারীরিক নানা প্রতিবন্ধকতার বাধা পেরিয়ে অ্যাথলেটরা যেভাবে এখানে লড়াই করছেন, তা অনেকের কাছেই শিক্ষণীয়। তবে স্প্যানিশ সাঁতারু সাবেস্তিয়ান চানো রদ্রিগেজের কাহিনিটা শুধু অনুপ্রেরণাদায়কই নয়, একই সঙ্গে বিস্ময়েরও। এবারের লন্ডন প্যারা-অলিম্পিকে দুটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এই অ্যাথলেটের হাসি দেখলে অনুমান করতে কষ্ট হয়, দীর্ঘদিন তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকারে, জীবন কেটেছে নানাবিধ সহিংস ও বিতর্কিত ঘটনাবলির মধ্যে।

অ্যান্দালুসিয়াতে জন্ম নেওয়া সাবেস্তিয়ান রদ্রিগেজ অল্প বয়সেই জড়িয়ে পড়েছিলেন বামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন গ্রাপোর সঙ্গে, যাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিবেচনা করে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে। স্পেনে বেশ কয়েকটি বোমা হামলা ও আন্দালুসিয়ার এক ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে রদ্রিগেজকে দেওয়া হয় ৮৪ বছরের কারাদণ্ড। চার বছর পর স্পেনের সব মাওবাদী বন্দীকে একই জেলখানায় রাখার দাবিতে রদ্রিগেজ শুরু করেন আমরণ অনশন। টানা ৪৩২ দিন ধরে চলা এই অনশনের ফলে মারাত্মক ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাঁর শরীর। হারিয়ে ফেলেন চলনশক্তিও। ১৯৯৪ সালে গুরুতর অসুস্থ বন্দীদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্প্যানিশ সরকার। এই ঘোষণার আওতায় কারাগারের বাইরে আসেন রদ্রিগেজ।

তরুণ বয়সে যে তিনি সঠিক পথে ছিলেন না, সেটা এখন খোলাখুলিই স্বীকার করেন ৫৫ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমি দেখেছি, সে সময় আমি ভুল পথে ছিলাম। আমি সেটার প্রায়শ্চিত্ত করার চেষ্টা করেছি। এখনো করছি। কিন্তু অতীত নিয়ে তো কিছু করার নেই। আমি শুধু ভবিষ্যতটাকেই পাল্টাতে পারি।’

আর কাজটা সত্যি সত্যিই করে দেখিয়েছেন সাবেস্তিয়ান রদ্রিগেজ। শারীরিক অক্ষমতা, বিতর্কিত অতীতকে তিনি ভুলিয়ে দিয়েছেন অসামান্য মনের জোরে। ২০০০ সালের সিডনি প্যারা-অলিম্পিকে অংশ নিয়ে তিনি জিতেছেন পাঁচটি স্বর্ণপদক। এর মধ্যে সাঁতারের চারটি ইভেন্টেই গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। এবারের লন্ডন প্যারা-অলিম্পিকেও তিনি জিতেছেন দুটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ পদক। কীভাবে সম্ভব হলো এই বিস্ময়কর পরিবর্তন? রদ্রিগেজের ভাষায়, ‘আমি বিশেষ কোনো কিছুর কথা জানি না। জীবনে কোনো জাদুকরি ব্যাপার নেই। আপনি যদি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন আর সামান্য কিছু ভাগ্যের সমর্থন পান, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবেই।’

জীবনে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও রদ্রিগেজ মেনে চলেছিলেন তাঁর এক নাম না জানা ভক্তের পরামর্শ। ‘জীবনে কেউই অতীতে ফিরে আবার নতুন করে শুরু করতে পারে না। কিন্তু সবাই শুরুটা এই মুহূর্তেই করতে পারে। যেতে পারে নতুন এক সমাপনীর দিকে।’ বিবিসি অনলাইন

  1. ভালো লাগলো জেনে। অনেকের অনুপ্রেরণা হবেন তিনি।

  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: