প্রযুক্তি জগতের পেটেন্ট যুদ্ধ

বর্তমানের প্রযুক্তি জগতে একটা যুদ্ধই শুরু হয়ে গেছে বলা যায়। আর এই যুস্ত্রের প্রধান অস্ত্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে মেধাসত্ব আইন বা পেটেন্টকে। ব্যবসায়িকভাবে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে এই মেধাসত্ত্বের অধিকার। আদর্শিকভাবে, উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি প্রদান করাই পেটেন্ট বা মেধাসত্ব আইনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়ায় এগুলো কাজ করছে গুগল, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, ইয়াহুর মতো বড় বড় কর্পোরেশনগুলোর গোলা-বারুদ হিসেবে। আর এই যুদ্ধে খোদ উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াটাই সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পেটেন্ট বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি মাইক্রোসফট, এওএল-এর কাছ থেকে প্রায় ৮০০টি পেটেন্ট কিনে নিয়েছে প্রায় এক বিলিয়নেরও বেশি ডলার খরচ করে। এই পদক্ষেপটা নিশ্চিতভাবেই নির্দেশ করে যে, কতটা বড় আকার ধারণ করেছে এই পেটেন্ট যুদ্ধ। শুধু এটাই না, প্রযুক্তিগত মেধাসত্ব নিজের দখলে নেওয়ার জন্য এমন কর্পোরেট অধিগ্রহণ মাঝেমধ্যেই ঘটে চলেছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়। স্মার্টফোন, আইফোনগুলোর তড়িত্ উদ্ভব এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে। মোবাইল ও তারবিহীন প্রযুক্তির পেটেন্টগুলো নিজেদের আওতায় রাখার জন্য মোটোরোলার প্রায় ১৭ হাজার পেটেন্ট কিনে নিয়েছে গুগল। বিনিময়ে খরচ করেছে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি টাকার অঙ্ক। অ্যাপল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে নরটেলের ওপর। ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে তাদের ভান্ডারে যোগ হয়েছে ছয় হাজার পেটেন্ট।

তবে প্রযুক্তি-দৈত্যদের এই যুদ্ধে খোদ উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াটাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পেটেন্ট বিশেষজ্ঞ জিম বেসেন। তিনি বলেছেন, ‘এখানে বাজারে টিকে থাকার জন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতার মতো ব্যাপার নেই। এটা রীতিমতো কর্পোরেট যুদ্ধক্ষেত্র।’

শুধু কর্পোরেট অধিগ্রহণই না, মেধাসত্বের দখল নিয়ে এই যুদ্ধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্তও। মামলা চলমান আছে ইয়াহু বনাম ফেসবুক, গুগল বনাম ওরাকল, অ্যাপল বনাম মোটোরোলা-স্যামস্যাংয়ের। বিজ্ঞাপন, গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ ও ছবি ট্যাগিং-এর ক্ষেত্রে ফেসবুক অন্তত ১০টি পেটেন্টে বিনাঅনুমতিতে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে এই বছরের জানুয়ারীতে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইয়াহু। ২০১০ সালে গুগলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ওরাকল। অভিযোগ: গুগল জেনেবুঝে তাদের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে ওরাকলের জাভা-সম্পর্কিত পেটেন্টগুলো ব্যবহার করছে। অ্যাপল ক্ষুব্ধ গুগলের দুই প্রধান পার্টনার মোটোরোলা ও স্যামস্যাংয়ের উপর। মৃত্যুর আগ পর্যন্তও স্টিভ জবস বলে এসেছেন যে, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমটা আইফোনের অনুকরণেই বানানো হয়েছে। সবগুলো মামলাই এখনো চলমান আছে।

মেধাসত্ব নিয়ে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে নতুন একটি আইন পাস করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। উদ্দেশ্য ছিল পেটেন্টের স্বীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানো ও অকিঞ্চিত্কর আইনগুলোর ত্রুটি সংশোধন করা। কিন্তু ইতিমধ্যেই এত বেশি ‘অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ ও সন্দেহজনক’ পেটেন্টকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে গেছে যে, আগামী দিনে প্রযুক্তি জগতের এই পেটেন্ট যুদ্ধ আরও উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বেসেনের।— টাইম ম্যাগাজিন অবলম্বনে

  1. इस अनुच्छेद के प्रकाश में जो हम वास्तविकता का पालन कर सकते हैं देता है.

  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: