ফেসবুকে ফিরছেন ‘নার্সিসাস’!

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো মানুষকে নিজ ভুবনকেন্দ্রিক ভাবনার তাড়না যোগাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে একটা সন্দেহ-সংশয় বিশেষজ্ঞদের বেশ কিছুদিন যাবতই ছিল। আর সম্প্রতি এই সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি আছে বলে জানান দিয়েছেন গবেষকরা। তাঁদের দাবি অনুসারে, একটা মানুষ কতখানি আত্মকেন্দ্রিক সেটা তার ফেসবুকের বন্ধু সংখ্যা এবং এর অন্যান্য ব্যবহার দেখে অনুমান করা সম্ভব। শুধু তাই না, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে গ্রীক দেবতা নার্সিসাস আবার নতুনভাবে ফিরে আসছেন বলে বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়েস্টার্ন ইলিনিয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষকরা।

গ্রীক পুরানের বহুলালোচিত অনেক চরিত্রের মধ্যে অন্যতম নাম নার্সিসাস। নার্সিসাস বিখ্যাত ছিল তার সৌন্দর্য্যের জন্য। কিন্তু এই সৌন্দর্য্যটা তার জীবনাবসানও ঘটিয়েছিল। জলাশয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তার চোখ অন্যদিকে ফেরানোর সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছিল। এবং এই অবস্থাতেই মারা যান গ্রীক পুরানের নার্সিসাস।

এই নার্সিসাস থেকেই উত্থিত হয়েছে নার্সিসিজমের ধারণা। যা মানুষের মধ্যে এক ধরণের আত্মবাদ, আত্মগর্ব, আত্মশ্লাঘার বৈশিষ্ট্যকে ইঙ্গিত করে। নার্সিসিজম বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। কখনও এটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সমস্যা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। কখনও বা এটাকে বলা হয়েছে মানসিক অসুস্থতা। সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন ইলিনিয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মনে করছেন, ফেসবুকে ব্যপকভাবে বাড়ছে নার্সিসিস্ট লক্ষণাক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বিশেষত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। এবং তা সনাক্তও করা যাচ্ছে।

এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পূর্বেই একটি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে নার্সিসাস-প্রভাবযুক্ত মানুষ বলে বিবেচিত হয়েছে, ফেসবুকে তাদের বন্ধুসংখ্যা বেশি, তারা প্রায়শই বিভিন্ন বিষয়ে বন্ধুদের ট্যাগ করে এবং তারা নিয়মিতভাবে তাদের স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে। এই গবেষণায় আরও দেখা যায়, এ ধরণের মানুষরা তাদের সম্পর্কে কোন সমালোচনামূলক মন্তব্যের জবাব দেয় খুব আক্রমণাত্মকভাবে। তারা ঘন ঘন নিজেদের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে। আর গবেষকদের ধারণা, তাদের এইসব আচরণগত বিষয়ের মধ্যে এমন কিছু খারাপ দিক আছে যার ফলে তারা নিজেদেরকে নিয়েই সর্বদা ব্যস্ত থাকে। এবং তারা এতে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। নিজ ভুবন কেন্দ্রিক এইসব কর্মকাণ্ড তাদেরকে ক্রমশ নার্সিসিস্টিক ব্যক্তিদের দিকে নিয়ে যায়।

বর্তমান এই তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো মানুষকে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগের অপার সুযোগ করে দিয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক তত্পরতার ক্ষেত্রেও বিশাল ভূমিকা রাখছে এই সাইটগুলো। তবে এগুলোর সার্থক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এই অন্ধকার দিকগুলো নিয়েও আরও গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন ওয়েস্টার্ন ইলিনিয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলের প্রধান ক্রিস্টোফার কার্পেন্টার। তিনি বলেছেন, ‘যদি ফেসবুক এরকম একটা জায়গা হয়ে থাকে, যেখানে মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া অনেক কিছু খুঁজে পাবে, সামাজিক সমর্থন অর্জন করতে পারবে তাহলে ফেসবুকের নেতিবাচক যোগাযোগগুলোর দিকেও নজর দেওয়াটা খুব জরুরি। আদর্শিকভাবে, মানুষের এখানে ফেসবুকিং করার কথা। সামাজিকতার পরিপন্থী আমি-বুকিং নয়।’— দ্য গার্ডিয়ান

সহ-লেখক: সুইট আদিত্য

  1. No trackbacks yet.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: