Archive for মার্চ 20th, 2012

রোমারিওর অন্য খেলা!

ব্যাংকারদের মতো ধূসর স্যুট পড়া, মাথায় কাঁচাপাকা চুলওয়ারা ছোট্ট মানুষটাকে দেখলে চেনাই যায় না। অনুমান করতেও কষ্ট হয় যে, এই মানুষটাই একটা সময় গোটা ফুটবল দুনিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। ১৯৯৪ সালে এই মানুষটার অসাধারন ফুটবল জাদুতেই ব্রাজিল জিতেছিল চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা। ৯৪-এর ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার রোমারিও আবার ফিরেছেন। তবে এবার খেলার মাঠে নয়। কিছুটা ভিন্ন জগতে। বিস্তারিত পড়ুন

প্রিয় বন্ধু বানাতে মানা!

ছোটবেলায় খুবই প্রিয়, সবচেয়ে কাছের বন্ধুটির সঙ্গে রাগারাগি, ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক দুঃখ পাওয়ার অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই অনেকেরই আছে। প্রিয় বন্ধুটির বিরহে মানসিকভাবে খানিকটা বিপর্যস্তও হয়ে পড়ে অনেক বাচ্চা। কোমলমতি শিশুদের এই মানসিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নতুন ধরনের এক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সাউথইস্ট লন্ডন, কিন্সটন ও সারের কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা প্রিয় বা বিশেষ বন্ধু বানানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে, দলবদ্ধভাবে খেলা বা সময় কাটানোর জন্য উত্সাহিত করছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চাদের। তবে মহান উদ্দেশ্য থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা শিশুদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা-বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি শিক্ষাগত মনোবিজ্ঞানী গায়নর বুট্টনির বরাত দিয়ে এই খবরটি জানিয়েছে দ্য সান। ব্রিটিশ এই পত্রিকাটিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘আমি খেয়াল করেছি যে শিক্ষকেরা বাচ্চাদের বলছেন, তাদের কোনো প্রিয় বা বিশেষ বন্ধু থাকা উচিত না। বরং তাদের সবার সঙ্গে মিলে দলবদ্ধভাবে খেলাধুলা করা উচিত। শিক্ষকেরা এটা করছেন কারণ তাঁরা বাচ্চাদের এই বিশেষ বন্ধু ছুটে যাওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে চান। কিন্তু কিছু কিছু বাচ্চার বিশেষ বন্ধু গড়ে উঠতেই পারে। এটা খুবই স্বাভাবিক। যদি তাদের সম্পর্কটা নষ্টই হয়ে যায়, তাহলে তাদের সেই বেদনা ভোগ করতেই হবে। কারণ তারা এর মধ্য দিয়েই এ বিষয়ে শিখতে পারবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শিক্ষকদের ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য রাসেল হবি এভাবে প্রিয় বন্ধু গড়ে তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খুব বেশিসংখ্যক বিদ্যালয়ে এই চর্চা করা না হলেও এটা যে ঘটছে, তা তিনি স্বীকার করেছেন। বাচ্চাদের মানসিক বিপর্যয়ের কথা বিবেচনা করে এই নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা যে মোটেই ভালো ফল বয়ে আনবে না, তা স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন ক্যাম্পেইন ফর রিয়াল এডুকেশনের মুখপাত্র ক্রিস ম্যাকগোভের্ন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না যে কীভাবে আপনি জোর করে বাচ্চাদের প্রিয় বন্ধু গড়ে তোলা বন্ধ করতে পারবেন। আমরা সারা জীবন ধরেই এ রকম সম্পর্ক গড়ে তুলি। আর বাচ্চারা সবকিছুই খুব গুরুত্ব দিয়ে নেয়। যদি আপনি তাদের বলেন যে তারা কোনো বিশেষ কাছের বন্ধু গড়ে তুলতে পারবে না, তাহলে সেটাই তাদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে। সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে, এ বিষয়েও তো তাদের জানার প্রয়োজন আছে।’