Archive for মার্চ 18th, 2012

কিছুটা পাগলাটে হওয়া প্রসঙ্গে জোসুয়া ওয়াল্টার্স

বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত কৌতুকাভিনেতা জোসুয়া ওয়াল্টার্স হেঁটেছেন মানসিক অসুস্থতা আর মানসিক দক্ষতার মাঝে সূক্ষ দড়ির উপর। তাঁর এই রসাত্মক, চিন্তার উদ্রেগকারী বক্তৃতায়, তিনি প্রশ্ন করেছেন: ঔষুধপত্রের মাধ্যমে উন্মাদনা নিয়ন্ত্রণে রাখা আর ম্যানিক পর্বের সৃজনশীলতার উপর সওয়ার হওয়ার মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্যটা কী হতে পারে?

আমার নাম জোসুয়া ওয়াল্টার্স। আমি একজন শিল্পী।

কিন্তু এই শিল্পী হওয়ার পাশাপাশি, আমাকে সনাক্ত করা হয়েছে একজন বাইপোলার ডিসঅর্ডার হিসেবে। আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছি। কারণ মঞ্চে যত বেশি পাগলাটে হই, ততই বেশি আনন্দদানকারী হয়ে উঠি আমি। আমার বয়স যখন ১৬ বছর, তখন সান ফ্রান্সিসকোতে প্রথমবারের মতো আমার উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেখানে আমার নিজেকে মনে হয়েছিল যীশু খ্রীষ্ট। হয়তো আপনারা এটাকে খুবই ভীতিকর বলে ভাবছেন। কিন্তু সত্যি কথা হলো, এমন কোন ড্রাগস নেই, যা আপনাকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে আপনার নিজেকে যীশু খ্রীষ্ট মনে হবে। (হাসি)

এরপর আমাকে একটা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আর সেখানে, সবাই নিজেদের এক-মানুষের অনুষ্ঠান উপস্থাপন করছে। (হাসি) সেখানে এখানকার মতো কোন দর্শক নেই, তাদের প্রস্তুতিমূলক মহড়ার সময় নির্ধারণ করার জন্য। তারা শুধুই অনুশীলন করছে। একদিন হয়তো তারা এখানে আসতে পারবে। তো, আমি যখন সেখান থেকে বের হলাম, তখন আমার রোগ নির্নয় করা হলো আর মনোরোগ চিকিত্সক আমাকে ঔষুধপত্র দিলেন। “আচ্ছা, জোস, তোমাকে কিছু, তোমাকে কিছু জাপ্রেক্সা দেওয়া যাক। ঠিক আছে? আপাতত আমার কলমে তো এটাই আসছে!” (হাসি) আপনাদের মধ্যেও অনেকে এই লাইনে আছেন। আমি দেখতে পাচ্ছি। আমি আপনাদের গুঞ্জন শুনতে পাচ্ছি। তো, আমার স্কুলের প্রথমার্ধটা ছিল এই ম্যানিক পর্বের সঙ্গে সংগ্রাম, আর দ্বিতীয় পর্বে ছিল এইসব ঔষুধপত্রের অধিক প্রয়োগ। যার ফলে আমি হাই স্কুলের অনেক সময় ঘুমিয়েই পার করেছি। দ্বিতীয়ার্ধটা ছিল একটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থা, ক্লাসেও। যখন আমি সেখান থেকে বের হলাম, তখন আমার সামনে সুযোগ আসল বেছে নেওয়ার। হয় আমি অগ্রাহ্য করতাম আমার মানসিক অসুস্থতাকে বা সাদরে গ্রহণ করতাম আমার মানসিক দক্ষতাকে।

ইদানিং একটা আলোড়ন উঠেছে এই মানসিক অসুস্থতাকে ইতিবাচক হিসেবে পূর্ণবিবেচনা করার জন্য। অন্ততপক্ষে এটার হাইপোম্যানিক এলাকাটাকে। আপনাদের মধ্যে যারা জানেন না যে, এই হাইপোম্যানিয়া কী, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এটা একটা নিয়ন্ত্রণহীন ইঞ্জিনের মতো। হয়তো একটা ফেরারি গাড়ির ইঞ্জিন, যেখানে কোন ব্রেক নেই। এখানকার অনেক বক্তার মধ্যে, আপনাদের অনেকের মধ্যেই এই সৃজনশীল প্রান্তটা আছে। আপনি হয়তো জানেন আমি কী নিয়ে কথা বলছি। আপনি এমন কোন কিছু করার জন্য তাড়িত হয়েছেন, যেটা সবাই আপনাকে বলেছে, সম্ভব না।

জন গার্টনারের একটা বই আছে। বইটার নাম “The Hypomanic Edge”। যেখানে তিনি বলেছেন, ক্রিস্টোফার কলোম্বাস, টেড টার্নার, স্টিভ জবস আর তাঁদের মতো প্রায় সব বিজনেস গুরুদেরকেই এই প্রান্তসীমাটার সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়েছে। ৯০ এর দশকের মধ্যভাগে আরেকটা বই লিখেছিলেন কে রেডফিল্ড জ্যামিসন। সেটার নাম ছিল “Touched With Fire”। সেখানে তিনি একটা  সৃজনশীলতার দৃষ্টিকোন থেকে দেখছিলেন যে, কিভাবে মোজার্ট, বিটোফেন, ভ্যান গগ এই ম্যানিক ডিপ্রেসনের সঙ্গে জীবন কাটিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছিলেন। তো, এই অসুস্থতার সবকিছুই খুব ইতিবাচক নয়। এখন, খুব সম্প্রতি, এই এলাকাটাতে আরও কিছু অগ্রগতি হয়েছে। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটা লেখা এসেছিল, যার শুরুটা হয়েছিল “কিছুটা পাগলাটে হওয়া” দিয়ে। যেখানে বলা হয়েছিল, কিছু বিনিয়োগকারী এমন ধরণের কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা খুঁজছেন, যাদের মধ্যে এই ধরণের কিছু পাগলামির ধাঁচ আছে, আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। তাদেরকে হয়তো সম্পূর্ণ বাইপোলার ডিসঅর্ডারের লক্ষণযুক্ত না হলেও হবে। কিন্তু তাদের এই বাইপোলার ধারাটা থাকতে হবে। একদিকে আপনি নিজেকে যীশু খ্রীষ্ট ভাবতে পারেন। আর অন্যদিকে তারা হয়তো আপনাকে অনেক টাকার মালিক বানিয়ে দিতে পারে। (হাসি) এবার আপনার সিদ্ধান্ত। আপনার বেছে নেওয়ার পালা। আর সবাই এর মাঝখানেই আছে। সবাই আছে এর মাঝামাঝিতে।

তো, হয়তো, উন্মাদ হওয়ার মতো কোন জিনিস আসলে নেই। আর আপনার কোন একটা মানসিক অসুস্থতা সনাক্ত করা হয়েছে মানেই আপনি পাগল, তা না। কিন্তু হয়তো এর মানে আপনি সেইসব বিষয়ে অনেক স্পর্শকাতর, যেগুলো অন্য মানুষ দেখতে পায় না বা অনুভব করতে পারে না। হয়তো কেউই সত্যি সত্যি উন্মাদ না। হয়তো আমাদের সবারই কিছু পরিমাণ পাগলামির ধাঁচ আছে। কার কী পরিমাণ আছে, সেটা নির্ভর করে আপনি এই ধারার কোথায় আছেন তার উপরে। আর আপনি কী পরিমাণ ভাগ্যবান, তার উপরে। ধন্যবাদ (হাততালি)